মুজিবুর রহমান
প্রকাশ : ৬ মে ২০২৬ দুপুর ০২:২০:৪৬
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্যের লড়াইয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত ‘হালিম গ্রুপ’ প্রধান
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দীর্ঘদিনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্যাম্পে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন হালিম, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অনুসন্ধানী তথ্যমতে, কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম মিয়ানমারে অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। তিনি একসময় নিষিদ্ধ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ‘হালিম’ নাম ধারণ করে আত্মগোপনে গিয়ে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন।
তার নেতৃত্বাধীন ‘হালিম গ্রুপ’ পরে আরসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করে বলে জানা যায়। এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এছাড়া হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগেও তার নাম উঠে এসেছে একাধিকবার। ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অস্ত্র ক্রয় ও নতুন সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে আটকের পর রহস্যজনকভাবে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় আসে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ক্যাম্পবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বের অবসান হলেও, বিশ্লেষকদের মতে এতে সহিংসতা কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ক্ষমতার শূন্যতা নতুন করে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হালিমের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে ক্যাম্পজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।