নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ দুপুর ০১:৩০:৩৩
যাত্রী ভাড়া বাড়ল স্পিডবোটের
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী যাত্রীবাহী নৌযানের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার (১২ মে) গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত ভাড়া গত ১১ মে থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে শান্ত ও অশান্ত—উভয় ধরনের নৌরুটের জন্য কিলোমিটারভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট রুটভিত্তিক আলাদা ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ভাড়া নির্ধারণে জ্বালানি ব্যয়, পরিচালন খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং যাত্রীসেবার মান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শান্ত নৌরুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা ৮০ পয়সা এবং অবশিষ্ট দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটার ৮ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অশান্ত নৌরুটে প্রথম ১০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার জনপ্রতি ভাড়া ১৭ টাকা এবং পরবর্তী ১০ কিলোমিটারের জন্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ও নৌপথের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এসব রুটে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে রুটভিত্তিক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরিচা ঘাট–কাজীরহাট রুটে ভাড়া ২৩৫ টাকা, শিমুলিয়া–কাঁঠালবাড়ী রুটে ১৩০ টাকা, বরিশাল–ভেদুরিয়া রুটে ৩২৫ টাকা, লাহারহাট–ভেদুরিয়া রুটে ১৬০ টাকা, ভৈরব বাজার–নবীনগর রুটে ২৭০ টাকা, নরসিংদী–সলিমগঞ্জ রুটে ২৩৫ টাকা এবং গলাচিপা–রাঙ্গাবালী রুটে ৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটেও নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। রাঙামাটির ফিশারি ঘাট–মারিশ্যা রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৮৬০ টাকা, মাইনি রুটে ৪৮৫ টাকা এবং বরকল রুটে ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অশান্ত নৌরুটের মধ্যে কুমিরা–গুপ্তছড়া রুটে ২৬০ টাকা, কক্সবাজার ৬ নম্বর ঘাট–মহেশখালী রুটে ৯৫ টাকা এবং বয়ার চর (চেয়ারম্যানঘাট)–নলছিরা (হাতিয়া) রুটে ৩২৫ টাকা ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিক ও পরিচালনাকারীদের নতুন ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানোর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন।
নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ায় একদিকে যাত্রীদের ব্যয় কিছুটা বাড়লেও, সংশ্লিষ্টরা বলছেন—এতে নৌপরিবহন খাতে সেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পরিচালনা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে যাত্রীদের একটি অংশ ভাড়া বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সেবার মানের সঙ্গে ভাড়ার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।