শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৭:২৪
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব: রায়হান সিরাজী
শনিবার (২০ জুন) সকালে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রায়হান সিরাজী বলেন, প্রতিবছর তিস্তা নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে বন্যার কারণে তিস্তাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অথচ এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনের কৃতিত্ব নিতে চাই না। সরকার যদি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করব।”
তিস্তা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বহু বছর ধরে আন্দোলন চলছে। বর্তমানে মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে এ আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছে। তাই আমরা এখনো আশাবাদী, তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন, পানির সংকট ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করে আসছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। একইসঙ্গে তারা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল গণি, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, গঙ্গাচড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ উপদেষ্টা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এ সময় তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে নতুন বাজেটে প্রকল্পটির জন্য পৃথক বরাদ্দ না থাকায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ এখনো কাটেনি।