রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০২:৪৪:৫০
প্রবল স্রোতে ধুনটে যমুনার ভয়াল থাবা, ৩০ মিটার স্পার নদীগর্ভে বিলীন, জিওব্যাগ-জিও টিউবেও মিলছে না সুফল; স্থায়ী সমাধানের দাবিতে নদীপাড়ের মানুষ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রবল স্রোতের মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউবও ভাঙন ঠেকাতে পারছে না। নতুন করে শহরাবাড়ি স্পারের সামনের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরাবাড়ি স্পারের সামনে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আরও বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। ভাঙন ধীরে ধীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও জনবসতির দিকে এগিয়ে আসায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। তাদের দাবি, প্রতি বছরের মতো সাময়িক নয়, এবার স্থায়ী ভাঙনরোধে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবরে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহরাবাড়ি এলাকায় যমুনার আকস্মিক ভাঙনে ভূমিসহ নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়। সে সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয় এবং ভয়াবহ ভাঙনের সূচনা ঘটে। পরে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কিন্তু চলতি বর্ষায় যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে আবারও ভাঙন শুরু হয়। প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে নদীর পানি তীরবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ায় জিওব্যাগ দিয়ে সংরক্ষিত অংশেও নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীপাড়ের মানুষের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে বছরের পর বছর যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি, বসতভিটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ভাঙনের খবর পেয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, “ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি বিশেষ জিও টিউব ও জিওব্যাগ নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আশা করছি, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।