মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ৬ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:১৭:১১
শ্রীমঙ্গলে রঙের উল্লাসে দোল উৎসব, তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে মুখর সবুজবাগ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে দোল উৎসব। রঙের আবির, ঢাক-ঢোল আর আনন্দঘন পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে শহরের সবুজবাগ এলাকা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ’-এর উদ্যোগে হাড়ি ভাঙার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শুরু হয় আবির খেলা, নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। লাল, হলুদ, বেগুনি ও গোলাপি রঙে রাঙিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীরা।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। নগর সংকীর্তন, ধামাইল, হোলি খেলা, নাচ-গান ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর ও নানা বয়সী নারী-পুরুষ রঙের খেলায় মেতে উঠেছেন। একে অপরকে আবির মেখে আনন্দ ভাগাভাগি করেন সবাই। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষও উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় দোল উৎসব হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগের এই আয়োজন। দোল বা হোলি এমন একটি দিন, যেদিন মানুষ পুরনো ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে ভালোবাসা, ক্ষমা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
উৎসবে অংশ নিতে আসা রিতু ভৌমিক বলেন, “প্রতিবছরই আমরা এখানে একত্রিত হই। সবাই মিলে রঙ খেলি ও আনন্দ ভাগাভাগি করি—এটা আমাদের জন্য বিশেষ একটি দিন।”
শ্রাবণী তালুকদার বলেন, “দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এই উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরই আমরা এখানে এসে বন্ধুদের সঙ্গে রঙ খেলি ও আনন্দ করি।”
এদিকে চা-বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন বাগানেও শ্রমিকরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করেছেন। রাধা-কৃষ্ণের চরণে আবির অর্পণ করে তারা আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। উপজেলার ভাড়াউড়া ও ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানেও উৎসবটি উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিয়াস দাশ বলেন, “এ বছর ষষ্ঠবারের মতো এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। দোল উৎসব মানুষকে একত্রিত করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।”