মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৮:০৩:২২
তিস্তার করাল গ্রাসে কাচাড়ীপাড়া, ঝুঁকিতে ২ হাজার ঘরবাড়ি
একদিকে নদীর তীব্র স্রোত, অন্যদিকে ভাঙনের আতঙ্ক। চোখের সামনে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালীর কাচাড়ীপাড়ার মানুষের।
তিস্তার ভাঙন থামছেই না। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রায় ২ হাজার ঘরবাড়ি, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি ক্লিনিকসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীরে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিস্তার তীরে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টের মধ্যে কাচাড়ীপাড়া সবচেয়ে উজানে। ফলে তিস্তার স্রোতের প্রথম আঘাত আসে এই পয়েন্টেই। কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা না গেলে ভাটির অন্য দুটি এলাকাতেও ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মানববন্ধনে স্থানীয় মনিরুজ্জামানসহ কয়েকজন বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতভিটা নদীর পেটে চলে যাবে। কাচাড়ীপাড়া রক্ষা করা গেলে ভাটির দুটি ভাঙনপ্রবণ এলাকাও অনেকটা নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু সময় চলে গেলে তখন আর ঘর সরানোর সুযোগও থাকবে না।
এলাকাবাসী জানান, এবার তিস্তার পানি প্রথম বাড়ার সময়ই কাচাড়ীপাড়ায় ভাঙন শুরু হয়। তাদের দাবি, এরই মধ্যে প্রায় ১৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে ৫০টির বেশি বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর স্রোত যেভাবে তীরের দিকে ধেয়ে আসছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়তে পারে ভাঙনের মুখে।
এ অবস্থায় কাচাড়ীপাড়া পয়েন্টে দ্রুত ২০০ থেকে ৩০০ মিটার এলাকায় পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে চর নোহালীর ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে আশ্বাসে থামছে না নদীর ভাঙন। এলাকাবাসীর শঙ্কা, সময় যত গড়াবে, ততই বাড়বে তিস্তার গ্রাস। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কয়েক হাজার মানুষ হারাতে পারেন শেষ আশ্রয়টুকুও।
তাই ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত জিওব্যাগ সরবরাহ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন কাচাড়ীপাড়ার মানুষ।