শাহপরান, কসবা আখাউরা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৬:০৩:১৮
কসবায় সঞ্চালন লাইন ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বালিহুরা এলাকায় উচ্চচাপের গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। চোরাই গ্যাস চুন তৈরির একটি কারখানায় সরবরাহের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) কর্মকর্তারা লাইনটি মেরামত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে বালিহুরা এলাকায় বাখরাবাদ ও সালদা গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী ১০ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইনে দুটি ছিদ্র করা হয়। একটি ছিদ্র দিয়ে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অপরটিতে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সময় উচ্চচাপের গ্যাস বের হওয়ার বিকট শব্দ ও গন্ধে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বাড়িতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিষয়টি নিয়ে তাদের সন্দেহ ছিল। পরে গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা রুমি ভূঁইয়ার অভিযোগ, বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া, গ্যাসক্ষেত্রে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি এবং স্থানীয় আরও কয়েকজন চুনের কারখানাটির সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া।
নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তিনি কারখানার জায়গাটি ঢাকার একটি পক্ষের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে স্ট্যাম্পযুক্ত চুক্তিপত্র রয়েছে। গ্যাস চুরির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন।
বালিহুরা গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, রাতে বিকট শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। ওই সময় এলাকায় বিদ্যুৎও ছিল না। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (অপারেশন) জাহিদুর রেজা বলেন, সালদা ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যবর্তী ১০ ইঞ্চি পাইপলাইনে প্রায় ৬০০ পিএসআই চাপের গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। কে বা কারা পাইপলাইনে দুটি অফটেক বের করেছিল। এর একটিতে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মাটি খুঁড়ে বিষয়টি শনাক্ত করার পর কোম্পানির ভিজিল্যান্স বিভাগকে জানানো হয়। পরে ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে কোল্লাপাথর এলাকায় একটি চুন কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। তবে কারখানাটি প্রায় বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
জাহিদুর রেজা জানান, উচ্চচাপের লাইনের গ্যাস বন্ধ করে বাপেক্স ও বিজিডিসিএলের সঙ্গে সমন্বয় করে লাইনের মাঝের গ্যাস বের করে পাইপলাইনটি নিরাপদ করা হয়েছে। পরে ফুটো হওয়া অংশ মেরামত করা হয়।
সালদা গ্যাসক্ষেত্রের ইনচার্জ মো. নুরুজ্জামান ও ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের আওতাধীন। খবর পাওয়ার পর বুধবার বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে শনিবার তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত লিখিতভাবে জানাতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। তদন্তের পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে কসবার সালদা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এ গ্যাসক্ষেত্রের তিনটি কূপ থেকে গড়ে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।