নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:২৩:০৭
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দ বানাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। এ জন্য শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শতাধিক শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশা কখনোই উপায়হীন বিকল্প কিংবা একটি সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হন, সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে সেভাবেই গড়ে তুলতে চায়।’
শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদাও জড়িত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিও জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে অবশ্যই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।’
বিশেষ করে স্কুল-মাদরাসার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ-সুবিধা ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পার হওয়ার পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে প্রথমেই আসেন শিক্ষক। শিক্ষকরাই তাদের আদর্শ ও রোল মডেল। শিক্ষকরা যাতে নিজেদের শিক্ষার্থীদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, সরকার সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।’
শিক্ষকদের শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের প্রিয়জন হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।’
শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পরিবারের পর শিক্ষক-শিক্ষিকারাই শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মানের মতো মূল্যবোধকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে।’
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষকরা হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান আত্মা।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সারাদেশ থেকে আগত শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।