মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:১২:৪৭
শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি মহড়া, উড়োজাহাজে আগুনের কল্পিত পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় সক্ষমতা যাচাই করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ—ফায়ার-২০২৬’।
সোমবার বিমানবন্দর এলাকায় আয়োজিত এ মহড়ায় একটি কল্পিত উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি করে অগ্নিনির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়।
মহড়ার দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের আগে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন এবং কন্ট্রোল প্যানেলে প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানায়।
এরপর জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে বাম দিকে ছিটকে পড়ে। ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে গিয়ে থামে উড়োজাহাজটি। পরে এর নিচের অংশে আগুন ধরে দ্রুত পুরো উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়ার কল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
খবর পেয়ে বিমানবন্দরের ফায়ার ক্রুরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের জরুরি প্রতিক্রিয়া কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় তা যাচাই করা। পাশাপাশি ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয় সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়।
মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিভিন্ন হাসপাতাল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা অংশ নেয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে মহড়া প্রত্যক্ষ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। তিনি বলেন, বিমান চলাচলে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা—আইকাও-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়া শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জরুরি ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।