নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ মার্চ ২০২৬ রাত ০৬:৫৯:৫৩
গোবিন্দগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকা সামছুন্নাহার রুমা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। এ সময় আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা চত্বরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
চামড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মির্জা শওকত জামানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান, রুহুল আমিন জুয়েল, আজিজুল হক, এএম এহেসানুল কবির মিলন, জোবাইদুর রহমান, আকমল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া রিপন, আবু তাহের, এমএইচ হাসান, মোনারুল হক, রেহেনা আফরোজ, শাহানুর ইসলাম, সোলাইমান মাস্টার, নিহতের সন্তান আহম্মেদ আব্দুল্যাহ রুপম ও নিহতের ভাই রাসেল মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যার কারণ উদঘাটন ও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একজন সরকারি চাকরিজীবী নিজ বাসায় নিরাপত্তা না পেলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এ প্রশ্ন তোলেন তারা। শিক্ষকদের কেন বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
তারা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় সারা দেশের শিক্ষক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের চক গোবিন্দ এলাকায় (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে) নিজ বাড়ি থেকে সামছুন্নাহার রুমা (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী (উত্তর) গ্রামের ছোলাইমান মাস্টারের মেয়ে।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও রুমার কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা তার ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে প্রবেশ করে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘরের আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী মামুনুর রশিদকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।