ফকির আতিয়ার রহমান, রামপাল ( বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০২:৫২:১৫
সুন্দরবনে ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ, বিপুল অস্ত্র জমা
সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু দল ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় তারা তাদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন চরপুটিয়া খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি দলের কাছে তারা অস্ত্র সমর্পণ করে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানায়, আত্মসমর্পণকালে দস্যুরা তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার গান, টির ফোর শুটার গান, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগানসহ মোট ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেয়।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মধ্যে খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা হলেন— বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২) এবং হেলাল (৩৮)।
এছাড়া বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা এলাকার বাসিন্দা হলেন— আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০), শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) এবং পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮)।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীটি সুন্দরবনের গহীনে সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আত্মসমর্পণকারী এই দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২১ জুন সাতজন ও ৯ জুলাই তিনজন দস্যু অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছিল।