নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৩:৩২:২৯
প্রতারণা মামলায় কারাগারে এসএমপির সহকারী কমিশনার সোহেল উদ্দিন
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণা মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত-১৫-এর বিচারক নাজনীন আক্তার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ২১ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে সোহেল উদ্দিনকে কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে এসএমপির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি সার্কেল) সোহেল উদ্দিন সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলায় দীর্ঘদিন জামিনে ছিলেন। গত ৯ জুন দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিফাত জাহান স্নিগ্ধার সঙ্গে সোহেল উদ্দিনের পরিচয় হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ এবং ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।
পরে স্নিগ্ধা জানতে পারেন, সোহেল উদ্দিন এর আগেই আমিনা কিবরিয়া মিশু নামে এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর দাম্পত্য বিরোধের জেরে যৌতুক দাবি, নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন। এ ছাড়া ঢাকার শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ও সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) মোসা. তানজিনা সাথীও তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলা এবং শাহজাহানপুর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, সিআর-২৩৪১/২০২২ মামলার বিচার গত মাসে শুরু হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর দিনও ছিল বুধবার। অন্যদিকে রিফাত জাহান স্নিগ্ধার করা দুটি মামলার বিচারও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সোহেল উদ্দিন ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৭ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এসএমপির কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে করা সব মামলাই বর্তমানে বিচারাধীন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন জসিম বলেন, একই বিসিএস ব্যাচের এক নারী সহকারী কর কমিশনারকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণা মামলায় আদালত সোহেল উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, আপস-মীমাংসার শর্তে জামিন পেলেও সোহেল উদ্দিন সেই শর্ত পালন করেননি এবং বিভিন্নভাবে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন। এমনকি মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদনও খারিজ হয়। আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের শর্ত ভঙ্গ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং মামলার অগ্রগতি বিবেচনায় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীসহ দুই নারীর করা একাধিক প্রতারণার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
ক্লোজড করার বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, প্রেমিকার মামলায় কারাগারে যাওয়ায় কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে কমিশনার স্যারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসি সোহেল উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাকে এসএমপির হেডকোয়ার্টারে সংযুক্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রীর করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি সিআর মামলা বিচারাধীন। মামলায় অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত চার্জ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
তিনি বলেন, মামলাটি দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার হওয়ায় কয়েক মাস আগে তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। সম্প্রতি ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে ২১ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি ব্যক্তিগত মামলা, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।