আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৭:৪৬:১৬
৭ শর্ত পূরণ না হলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের
ইসলামাবাদ স্মারকপত্রের ভিত্তিতে তৈরি সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তেহরান বলেছে, অহেতুক সময়ক্ষেপণ এবং একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের বরাতে আলজাজিরা এই তথ্য জানায়।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শীর্ষ রাজনৈতিক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক রোডম্যাপ পাঠানোর কয়েক দিন পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কিছু নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
বাঘের গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদকেন্দ্রিক সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে আমাদের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে পূর্ণ শক্তিতে উপস্থিত রয়েছে। প্রয়োজন হলে শত্রুকে নতুন সব ‘সারপ্রাইজ’ বা চমকের মুখোমুখি করা হবে।
রানের স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে আর অন্যদিকে হুমকির কৌশল অবলম্বন করছে। তবে তাদের এসব মনস্তাত্ত্বিক চালে ইরান মোটেও বিচলিত বা ভীত নয়। ইরান একই সঙ্গে যুদ্ধ ও কূটনীতি দুটোই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
অন্যদিকে তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের এক সমাবেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, নিজেদের সুরক্ষার ব্যাপারে আমরা যেমন গম্ভীর, তেমনি কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়েও আমরা সমান আন্তরিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান আগের চেয়েও দ্বিগুণ প্রস্তুতি নিয়ে নিজেদের রক্ষায় কঠোরতম পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল। ওয়াশিংটন কেবল তাদের পারমাণবিক আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে, অথচ কৌশলগত জলপথটি স্বাভাবিক করাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে বিগত সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ ও নৌচলাচল বিঘ্নিত হয়ে আছে। শান্তি বজায় থাকা অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সংকট আরও ঘনীভূত হয়।