নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৯:০৭:৫১
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, শিগগির সমাধানের আশ্বাস
দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাময়িক এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করা হয়নি। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারকে নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের মাটিতে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে একটি এলএনজি জাহাজ দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এ সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণের জন্য, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নয়।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। কারও কাছে জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা যদি ছয় মাসের মধ্যেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে সরকার তা সানন্দে বাস্তবায়ন করবে।
সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু দলকে হারিকেন সামনে নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে। এ ধরনের হঠকারিতা জনগণ এখন আর পছন্দ করে না।
অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যাতে মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শুধু শ্রমিকের হাত নয়, দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, আমি নিজে কী পেলাম, সেটি বড় কথা নয়; আমি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম—সেটিই বড় সার্থকতা।