নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:১১:২৯
৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে পর্যায়ক্রমে ফেরত নিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রত্যাবাসন শুরু হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। খবর এপি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর শুরু হওয়া এই রোহিঙ্গা সংকট ৯ বছরে পদার্পণ করার মুখে এই বিবৃতি এলো।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা থেকে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জন শরণার্থীর তথ্য চূড়ান্তভাবে যাচাই করে মিয়ানমার। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের নিবন্ধিত অধিবাসী ছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেপিদো।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানায়, ২০১৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে ২০২১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে আরাকান আর্মির সাথে সামরিক বাহিনীর তীব্র সশস্ত্র সংঘাত বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে নিবন্ধিত ৩ লাখের বেশি নাগরিককে ফেরত নিতে ঢাকার সাথে আলোচনা চালু রাখা হবে।
বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন। টানা শরণার্থী জীবনের হতাশা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় অনেকেই এখন সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরাতে সমঝোতার কথা উল্লেখ করলেও, মিয়ানমার জানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষেই কেবল এই নিবন্ধিত অধিবাসীদের ফেরত নেওয়া হবে।