বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ়তা, মানবিকতা,সততা ও দেশপ্রেম জনগণের স্বপ্ন পূরণের এক নিয়ামক শক্তি। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে কুচক্রী মহলের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুস্থ ধারার রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ,কোন অপশক্তি দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। জনগণের প্রতিবাদ ঝড়ে স্বার্থান্বেষী মহলের গভীর ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার অপচেষ্টা খড়কুটার মতো উড়ে যাবে।মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দাউদকান্দি উপজেলার মোল্লাকান্দি লাল মিয়া পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাস মাঠে 'নবীন বরন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড.খন্দকার মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের গর্ব,অহংকার।তিনি জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দূরদর্শী ও দৃঢ়প্রত্যয়ী ভাষণ দিয়ে বিশ্বনেতাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছেন। এই ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এতে জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে,আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা এবং অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উজ্জীবিত করেছেন। বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে একমাত্র 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান' জিয়া পরিবারের ৩য় সদস্য হিসাবে ভাষণ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। জাতি হিসেবে আমরা সন্মানিত হয়েছি। এর ফলে আগামী দিনে দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি, ফার্মার্স ও ই-হেলথ কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাগুলো সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি প্রণোদনা পৌঁছানো এবং কৃষি ভর্তুকি ও চিকিৎসাসেবা সহজতর হবে।খন্দকার মারুফ বলেন, স্বাধীনতার পরে ফ্যাসিস্ট দলটি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তারা নিজ দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যস্ত ছিলো। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়। বিএনপি সরকার সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষাঙ্গণে সীট দখল,অরাজক পরিস্থিতি তৈরী এবং ঢালাওভাবে পাশের হার বাড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে তারা কোনো কাজই করেনি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান সরকারের শিক্ষাঋণ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। নিজেদের সুশিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে লেখাপড়ায় অধিক মনোযোগ দিবে। অনাহুত ঘোরাঘুরি, আড্ডাবাজিতে গা ভাসাবে না।কলজের গভর্নিং বডি'র সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম সুমনের সভাপতিত্বে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, অধ্যক্ষ মো.জামাল হোসেন মজুমদার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বিএনপি নেতা সাইফুল আলম ভুইয়া,দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার,সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরী,ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, শরীফ চৌধুরী,রোমান খন্দকার,কামাল হোসেন ও আবদুল কাদের প্রমুখ।
২ ঘন্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তন ২০২৭ সালের ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এতে আসতে সম্মতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে সমাবর্তনে আমন্ত্রণ জানান। পরে রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য ২০২৭ সালের ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন ও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেস্ট অব অনার হিসেবে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠই নয়; দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্রবিন্দু। তিনি শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
২২ ঘন্টা আগে
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে যে চারটি আসনে ছাড় দেয় এর মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনও। তবে এই আসনে বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কাছে পরাজিত হন জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। নির্বাচনের প্রায় আট মাস পর তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফিকির’ অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিএনপি প্রত্যাশিত আন্তরিকতা দেখায়নি। বরং দলটির একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে ও আড়ালে কাজ করেছে।সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের যে রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তার ভাষ্য, বিএনপি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্তরিকভাবে জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে এ আসনে বিজয় সম্ভব ছিল। কিন্তু নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিএনপির একটি অংশ প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালন করেনি।সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে এ এলাকায় ইসলামপন্থীদের একটা প্রভাব রয়েছে। ফলে বিএনপি-জমিয়তের সমঝোতার ক্ষেত্রে আসনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জুনায়েদ আল হাবীবের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ জমিয়তের প্রার্থীর পরিবর্তে রুমিন ফারহানার পক্ষে সক্রিয় ছিল। অন্য একটি অংশ ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখায়নি।নির্বাচনি মাঠের নানা অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন জমিয়তের এই সহসভাপতি। তার দাবি, আওয়ামী লীগপন্থি প্রায় ৩০ শতাংশ নেতা-কর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করেন রুমিন ফারহানা। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন তিনি।ভোটের দিনও জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন জুনায়েদ আল হাবীব। তার অভিযোগ, যেসব কেন্দ্রে জমিয়তের বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেসব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এতে ভোটের মাঠে তার প্রার্থিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।বিএনপির সঙ্গে জমিয়তের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কাজ করেছে। বিভিন্ন আসনে আলেম-উলামাদের সমর্থনের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা উপকৃত ও বিজয়ী হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, যেখানে জমিয়তসহ ইসলামপন্থি দলগুলো জোটের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তের প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন একই ধরনের ভূমিকা রাখলেন না।শুধু বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক নয়, ইসলামি দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন জমিয়তের এই নেতা। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি বর্তমানে কাজ করছে। বৃহত্তর ইসলামি রাজনৈতিক ঐক্যের সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা চলছে।জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, বৃহত্তর ইসলামি প্ল্যাটফর্ম যদি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির সঙ্গে থাকা জোট থেকেও বেরিয়ে আসতে প্রস্তুত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।
২২ ঘন্টা আগে
বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও অপমান করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্বলতা সংশোধন না করে প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমন করা হলেও আখতারুজ্জামান অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং জনগণের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন।রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রী ও বিদেশফেরত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কার্যত ভুক্তভোগী মানুষের প্রতিবাদের কণ্ঠে পরিণত হয়েছিলেন।কর্তৃপক্ষের আচরণের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তার এই প্রতিবাদকে আমলে নিয়ে দুর্বলতাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসম্মুখে অপমানিত করার নানা হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে। কার্যত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তিনি বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তার সম্মান বৃদ্ধি করুন।’
১ দিন আগে