নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ বিকাল ০৫:৪০:০৬
শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার সাতটা তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। সাতটা তাজা প্রাণ। কেন ঝরে গিয়েছিল? সেই সাতটা তাজা প্রাণ তাদের দাবি ছিল বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপিরই সাতটা প্রাণ ঝরে গিয়েছে বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। এইভাবে সারা বাংলাদেশে শুধু বিএনপিরই শত শত নেতাকর্মী তাদের জীবন আত্মাহুতি দিয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্ট মাসেই আমাদের সারা বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চারশোর মতো নেতাকর্মী সেদিন খুন হয়েছিল।
শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাদের মৃত্যুকে যদি মূল্যায়ন করতে হয় তাহলে আমাদের সকলকে আজ দেশ গঠন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আমাদেরকে হাত দিতে হবে।
‘খোদ খাল’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করে গিয়েছিলেন, তারপরে সময়ের পরিক্রমায় খালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই খাল শহীদ জিয়া যখন খনন করেছিলেন, তার ফলে এই এলাকার কৃষক ভাইদের সুবিধা হয়েছিল। প্রায় ২০০০ কৃষক পরিবারের সুবিধা পেয়েছে। ১৩ কিলোমিটার লম্বা খালের সুবিধা বহু মানুষ পাবে, শুধু কৃষক ভাইয়েরা না, খালের দুই পাশে যারা থাকে তারাও পানির সুবিধা পাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বাংলাদেশের মাটি এত উর্বর করে দিয়েছেন যে আমরা যদি সময়মতন পানি দিতে পারি তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে এখানে ফসল পড়ে।
ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিও আমরা নির্বাচনের আগে এই দেশের মানুষের কাছে দিয়েছিলাম। বিএনপি ১২ তারিখের নির্বাচনে যদি আপনাদের সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে, ইনশাআল্লাহ আমরা দেশের চার কোটি পরিবার রয়েছে, ধীরে ধীরে আমরা এই পরিবারের যারা মায়েরা আছে, গৃহিণীরা আছে, তাদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এক এক করে পৌঁছে দেব এবং সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা আড়াই হাজার টাকা প্রতি মাসে আমরা মায়েদের হাতে তুলে দেব। যাতে করে সেই মায়েরা শিশুদের লেখাপড়া বলেন, স্বাস্থ্য বলেন, সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে। ধীরে ধীরে যাতে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারণ মা যদি শিক্ষিত হয় পরিবার শিক্ষিত হয়। মা যদি স্বাবলম্বী হয় একই সাথে পরিবারের সকল সদস্য ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়।
বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেই বাজেট চলছে এটি তো বিএনপি সরকারের বাজেট না। এটি বিএনপি সরকারের আগে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল তাদের করে যাওয়া বাজেট এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কোন টাকা দেওয়া ছিল না। সেই বাজেটের মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য কোন টাকা দেওয়া ছিল না। সেই জন্য ইনশাআল্লাহ এবার আপনাদের সরকারের বিএনপি সরকার বাজেট তৈরি করছে এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে, কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে কৃষক ভাইদের জন্য।
কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর যাতে কৃষক ভাইদের যে সার, কীটনাশক, যেসব বীজ, ফসলের বীজ এগুলো কিনতে যেই টাকাটির প্রয়োজন তার একটি অংশ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দেব।
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব এবং ইনশাআল্লাহ আমরা এই যে মেয়েদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি আছে, এটাকে আমরা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত আমরা ইনশাআল্লাহ ফ্রি করব। শুধু তাই নয়, যে সকল মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে ইনশাআল্লাহ তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়তে চাই, তাহলে এই নারীদেরকে যদি আমরা স্বাবলম্বী না করি, শিক্ষিত না করি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করি তাহলে আমাদের এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশের তরুণদেরকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং দিতে, যাতে করে তারা দেশে কোন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারে। যাতে করে দরকার হলে তারা বিদেশেও যেতে পারে এবং বিদেশে যাতে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এখন যে রকম অদক্ষ শ্রমিক যায়, আমরা চাই আমাদের শ্রমিকদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে যাতে বিদেশে গিয়ে তারা বেশি ইনকাম করতে পারে, যাতে করে তারা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, এই এলাকার সন্তান চাঁদপুরের সন্তানই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। আপনাদের সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে আমি এখনই বলে যাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব সেই টেকনিক্যাল কলেজের ব্যাপারে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জনগণকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, এই ৪০ কোটি হাত যদি একসাথে কাজ করা ধরে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সকলে বলি —জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান তুলে উপস্থিত জনতাকে দেশ গড়ার শপথ নিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।