নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬ রাত ১১:৫৮:৪০
চ্যানেল এস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের পর অনলাইন পোর্টালের কথিত সাংবাদিক গ্রেফতার
চ্যানেল এস-এর জনপ্রিয় অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান 'কে শোনে কার কথা'-এ 'প্রেস কার্ডের অপব্যবহার: আস্থার সংকটে সাংবাদিকতা' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের নামে গুজব ও অপপ্রচারের অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২২(২), ২৫(১) ও ২৭-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজধানীর মগবাজার মোড়সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে সকালের সংবাদ অনলাইন পোর্টালের কথিত সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মামলার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চ্যানেল এস-এ প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের নামে গুজব ও অপপ্রচার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে হাফিজুর রহমান শফিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হাফিজুর রহমান শফিক একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী। প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানায়, এর আগে চ্যানেল এস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুজিত চক্রবর্তী এবং প্রধান প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান রুমানকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই মামলায় হাফিজুর রহমান শফিকসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এছাড়া তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সূত্রের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, অপপ্রচার চালানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া হাফিজুর রহমান শফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।