নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৬:১৫
তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, “সুশিক্ষিত ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তাই বর্তমান সরকার তরুণদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের ভিত্তিতেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তরুণদের এই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে হলে তাদের সুস্বাস্থ্য, সুশিক্ষা এবং স্বাধীনভাবে কর্মসংস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সুখী পরিবার গড়ে তোলার সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তরুণরা তাদের সমষ্টিগত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে নিজস্ব শক্তিতে নতুন বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে পারে।”
স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যবার্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ ও অন্যান্য ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের জনবলকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তরুণ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মেডিকেল এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে তরুণদের নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী স্থূলতা (Obesity), মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, খেলাধুলার প্রতি অনীহা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তরুণদের জীবনে নতুন স্বাস্থ্যসংকট তৈরি হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, “যে জাতি তার তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়, তাকে প্রথমেই নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। তরুণদের স্বপ্ন যেন ভাগ্য বা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর না করে, বরং একটি যত্নশীল রাষ্ট্রের সুচিন্তিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিনিয়োগের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়—আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।