নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:২০:৩৫
নাগরপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন
রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে স্থানীয় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম ভূইয়া বেলা ১১টার দিকে নিজ ঘরে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় তার ছেলে মোস্তফা ভূইয়া (২২) বাবার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে মোস্তফা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা শীলপাথর (নোড়া) দিয়ে বাবার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে আব্দুর রহিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মোস্তফা মাদকাসক্ত। প্রায় ছয় মাস আগে দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী এলাকায় তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মোস্তফা মানসিক ভারসাম্যহীন। নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম (৫০) ও বড় মেয়ে সালমা (৩০) জানান, মোস্তফা মাঝে মধ্যেই অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। ঘটনার সময়ও তিনি এমন আচরণের একপর্যায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই শীলপাথর দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। তাদের দাবি, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. আব্দুল কদ্দুস বলেন, মোস্তফা মাদকাসক্ত। এছাড়া তার মস্তিষ্কেও সমস্যা ছিল। টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে তার ছেলে মোস্তফা ভূইয়া শীলপাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর মোস্তফা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।