রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:৪১:০৬
বগুড়ার সাতমাথায় ড্রেন খুঁড়তেই মিলল ৩৪০ রাউন্ড গুলি
বগুড়ার ব্যস্ততম সাতমাথা এলাকায় ড্রেন সংস্কারের জন্য মাটি খুঁড়তেই মিলেছে বিপুল পরিমাণ গুলি। কাদা-পানির নিচে একসঙ্গে পড়ে থাকা ৩৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শহরের সাতমাথা এলাকায় জিলা স্কুলসংলগ্ন ড্রেন থেকে এসব গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রায় এক মাস ধরে ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছে। রোববার দুপুরে শ্রমিকেরা ড্রেনের কাদা-পানি সরিয়ে মাটি খনন করার সময় হঠাৎ একসঙ্গে বেশ কিছু গুলি দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হলে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, উদ্ধার হওয়া ৩৪০ রাউন্ড গুলির মধ্যে চায়নিজ রাইফেল, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল ও এসএমজির গুলি রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, গুলিগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় হামলা ও লুটপাটের সময় লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের অংশ হতে পারে। ওই সময় সদর থানার অস্ত্রাগার থেকে প্রায় ৮ হাজার রাউন্ড গুলি লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। লুটের পর কোনো একপর্যায়ে এসব গুলি ড্রেনের মধ্যে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
তবে উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো সত্যিই সদর থানার অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সাতমাথার মতো জনবহুল এলাকায় ড্রেনের ভেতর বিপুল পরিমাণ গুলি কীভাবে এল—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রাগারের গোলাবারুদের সঙ্গে এসব গুলির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে এগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া গুলির উৎস শনাক্ত হলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সদর থানার অস্ত্রাগার লুটের ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।