আশরাফুল ইসলাম রাজন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬ রাত ১১:২৬:৫৪
রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স ছয় মাস পর খুলে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে এ অর্থের হিসাব পাওয়া যায়। এটি পাগলা মসজিদের ইতিহাসে একবারে সর্বোচ্চ দান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
টাকা গণনার কাজে অংশ নেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৫০০ জন।
গণনা কার্যক্রমকে ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে ১০টি স্থায়ী দানবাক্স এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক ব্যবহার করা হয়। গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা দেওয়া হবে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১১৪ কোটির বেশি টাকা জমা রয়েছে। অনলাইনে দান গ্রহণের জন্য www.paglamosque.org ওয়েবসাইট চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক জানান, পাগলা মসজিদের আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নান্দনিক নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
পাগলা মসজিদের তহবিল থেকে বর্তমানে মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভরণপোষণ, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় বহন করা হয়। এছাড়া তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।