নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ রাত ১০:১৮:২২
হয় শিক্ষার্থী নেই, নয় শিক্ষক অনুপস্থিত—গোয়ালঘরে পরিণত বাওয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা
অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে বাওয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, কখনো শিক্ষার্থী থাকে না, আবার শিক্ষক এলেও শিক্ষার্থীদের দেখা মেলে না—এভাবেই অনিয়মের চক্রে চলছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনটির ভেতরে এখন আর শিক্ষা পরিবেশের কোনো চিহ্ন নেই। কোথাও পড়ে আছে মাছ ধরার জাল, কোথাও গোবরের স্তূপ। শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো বেঞ্চ বা পাঠদানের উপযোগী আসবাবপত্র। দেয়াল ও মেঝেতে জমে আছে ময়লার স্তর, যা শিশুদের জন্য একটি অনুপযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করছেন। হাজিরা খাতায় নাম থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে তাদের উপস্থিতি দেখা যায় না। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “শিক্ষকরা এলে ছাত্র থাকে না, আবার ছাত্র এলে শিক্ষক পাওয়া যায় না।”
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে অফিস কক্ষ না থাকলেও প্রধান শিক্ষক শহীদুল্লাহ্ সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দিয়েছেন বলে দাবি রয়েছে, যা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রায় অচল অবস্থায় পৌঁছেছে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসা কার্যত গরু পালন ও মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখার স্থানে পরিণত হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, আশপাশে বিকল্প প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব থাকায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা গ্রহণও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসতে পারে।