নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৪:০৮
৭ নভেম্বর শহীদ জিয়ার হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়: ড. মারুফ
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, সেদিন চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল, কিন্তু সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পৃথক দুটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মারুফ বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন এবং জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করেই সেদিন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও জাতীয়তাবোধের কারণে তিনি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনেই তিনি স্বাভাবিকভাবে নেতৃত্বের আসনে চলে আসেন।
তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ৭ নভেম্বর সকালে রেডিওতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের শেষাংশ স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’ তাঁর এই শানিত বক্তব্য জাতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক দলিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. মারুফ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিতে রেখেছিল এবং শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের অবদানকে খাটো করেছে। অন্যের অবদান অস্বীকার করা আওয়ামী লীগের মজ্জাগত অভ্যাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে তারা আইনশাসন, গণতন্ত্র ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান পিতামাতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তাঁর ডায়নামিক নেতৃত্ব দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. খন্দকার মারুফ আরও বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতা দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধ দেশ গড়ছেন এবং জনগণের কল্যাণে নানা উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো জনগণের শান্তি বিনষ্ট করার জন্য নানা ফন্দিফিকির করছে এবং পলাতকরা দেশকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশপ্রেমিক জনগণ এসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।
দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইউএনও মো. জাকির হোসেন এবং মেঘনার সভায় ইউএনও মৌসুমী আক্তার সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম, বিএনপি নেতা এম.এ লতিফ ভূইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, আ. অদুদ মুন্সী, আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, এম. আবদুস সাত্তার, কাওসার আলম সরকার, কামাল হোসেন, এম. সালাহউদ্দিন সরকার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, ইউসুব হোসেন নয়ন, দিলারা শিরীন, ভিপি শাহাবউদ্দিন ভুইয়া, আনোয়ার হোসেন আনন্দ, শাহ্ আলম সরকার, শরীফ চৌধুরী, আতাউর রহমান ভুইয়া এবং মো. রোমান খন্দকার প্রমুখ।