নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:২৮:৫৮
বগুড়ায় আইনজীবী অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন, নিরাপত্তা দাবি
এক আইনজীবীকে অপহরণ, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন বগুড়া বার সমিতি-এর আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় বগুড়া শহরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির জয়েন্ট সেক্রেটারি এনামুল হক পান্নাসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। এ সময় ভুক্তভোগী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুবায়ের-ও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, আইনজীবীরা যদি নিজেদের নিরাপত্তা না পান এবং সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন, তবে দেশের আইনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এ সময় এনামুল হক পান্না জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর কাছে ইতোমধ্যে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী আইনজীবীকে অপহরণ করা হয়। তিনি এর আগে প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জি.আর ৪০/২০২৫ (সদর) মামলা দায়ের করেছিলেন এবং এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট কার ও সিএনজি নিয়ে তার বাড়ির সামনে অবস্থান নেয় এবং ফোন করে বাইরে ডেকে নেয়। বাইরে গেলে অস্ত্রের মুখে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে তাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে আটকে রাখা হয় এবং এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ নিতে বাধ্য করা হয় এবং ভিডিও ধারণ করে তাদের ইচ্ছামতো বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে তার বাম চোখে গুরুতর আঘাত করা হলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায় এবং পায়ের গোড়ালিতেও আঘাত করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে শহরের মাতিডালি রোড এলাকায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে এক সিএনজি চালক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে একজনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও আইনজীবীরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।