নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৪:০৪:৩৮
পাশাপাশি একই পরিবারের ৯ লাশ, পুরো রামপালে শোকের আবহ
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের দাফনের জন্য মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি ৯টি কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। এই কবরগুলোতেই শায়িত হবেন একই পরিবারের নিহত ৯ জন।
১২ মার্চ বৃহস্পতিবার
বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে
যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন
নবদম্পতিসহ দুই পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা
হয়।
নিহতদের মধ্যে
একই পরিবারের ৯ জন হলেন, বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ
সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির
স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। শুক্রবার ভোরে
তাদের মরদেহ মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
অন্যদিকে কনে
মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা
বেগমের মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।
শুক্রবার জুমার
আগে সেখানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মাইক্রোবাসের
চালক নাঈমও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের
সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত বর ছাব্বির
মোংলা শহরে একটি মোবাইল ফোনের দোকান পরিচালনা করতেন। আর কনে মিতু ছিলেন কয়রার নাকসা
আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার সকালে
মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ ভিড়
করছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেশী
শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো লাশ আগে কখনো দেখিনি। এই দৃশ্য সহ্য করা খুবই
কঠিন।
নিহত আব্দুর
রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। রাজ্জাক ভাই
মেয়ের বিয়েও কয়রায় দিয়েছিলেন, এবার ছেলের বিয়েও সেখানে হলো। কিন্তু পুরো পরিবারটাই
শেষ হয়ে গেল।
তিনি জানান,
আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। নিহতদের গোসল শেষে একে একে খাটিয়ায় রাখা
হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌর
কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মোংলা কবরস্থানের
খাদেম মুজিবুর ফকির জানান, পরিবারের সম্মতিতে একই স্থানে ৯টি কবর খোঁড়া হয়েছে। তিনি
বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের
জন্য কখনো কবর খুঁড়তে হয়নি। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।