মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১:১১:০১
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষককে ধরতে গিয়ে বিদ্যালয়ে তুলকালাম
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে আসার পর অভিভাবকেরা তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পরিস্থিতি দেখতে বিদ্যালয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ হন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদও।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে এ পরিস্থিতি চলে। পরে পুলিশ গিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপদে বের করে আনে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী।
এরপর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। বুধবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এলে কয়েকজন অভিভাবক তাঁকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
পরে ওই ছাত্রীর বাবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, শিক্ষকের আচরণে তারা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে।
কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছিল কি না বা তদন্তের ফল কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আগেও দুটি বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষক যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি ওই শিক্ষক এমন আচরণ করতে পারেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে বের করে আনে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।