মো রমিম সরদার, কালিয়া উপজেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬ দুপুর ০২:৫৪:৩০
নড়াইলে ছেলে চোরাই রড কেনার অভিযোগে বাবাকে পিটিয়ে আহত
নড়াইলে ছেলে চোরাই রড কেনার অভিযোগে বাবাকে পিটিয়ে আহত করেছে। আহত গফফার শেখ(৫০)কে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৮জুন রোববার বিকালে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও আহতের সূত্রে জানাগেছে, গত ২২ জুন রাতে নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জাহিদ শিকদারের বাড়ি থেকে তিন বান্ডিল রড চুরি হয়। এঘটনায় একই গ্রামের মোঃ রুকুর ছেলে সিয়াম ও মোঃ শাহিদের ছেলে আরিফুল চুরি করে বলে এলাকাবাসী নিশ্চিত হন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই রড একই এলাকার গাফফারের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছে বলে স্বিকার করেন। রড ফেরত চাইলে সাইফুল ইসলাম ফেরত দিয়ে দেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ২৮ তারিখ রোববার বিকালে রামচন্দ্রপুর বাজারে আউড়িয়া ইউনিয়নের সদস্য মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে শালিস বসে। শালিসে সাইফুল ইসলাম উপস্থিত না হওয়ায় সাইফুলের পিতা গফফার শেখকে বাদশার গ্যারেজ এলাকায় তার মুদি দোকান থেকে তুলে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন স্থানীয় ইউনিয়নের সদস্য মাহমুদ শেখ। এসময় ভ্যান চালক মোঃ কাদের গফফার শেখকে ভ্যানে করে তুলে আনার সময় পথিমধ্যে তাকে অজ্ঞাত কয়েকজন পিটিয়ে গুরুতর আহত করে শালিসে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গফফার শেখকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গফফার শেখের স্ত্রী নারগিস পারভীন বলেন, আমার ছেলে রড কিনেছিলো, যাদের কাছ থেকে কিনেছিলো তারা যখন ফেরত চেয়েছে দিয়ে দিছে। সেই রড মালিককে স্থানীয়রা বুঝিয়ে দেওয়ায় তার কোন অভিযোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মাহমুদ শেখের নির্দশে
আমার স্বামীকে দোকান থেকে তুলে পথে নিয়ে পিটিয়ে যখম করেছে। আমার স্বামীর অপরাধ কি ? আমার স্বামীকে যারা মেরেছে তাদের বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে আউড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মাহমুদ শেখ বলেন, গফফার তার ছেলে সাইফুলকে শালিসে হাজির না করা এবং নিজে হাজির না হওয়ায় ওই মিঠিংয়ের সিদ্ধান্তু অনুযায়ী গফফারকে ধরে আনতে লোক পাঠানো হয়। তখন তাকে ছেলেপেলেরা মারধর করেছে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমরা পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।