যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া প্রফেশনাল ফেলোস প্রোগ্রাম (পিএফপি) অন ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পোশাক ব্র্যান্ড ফিয়েরোর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ইয়াসির আলম।বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে চার হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে ২২ জনকে এ কর্মসূচির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের ছয়জন রয়েছেন। একাধিক ধাপের মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের নির্বাচন করা হয়।কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার গেইলর্ড কলেজ অব জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন। বাংলাদেশে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিইডি)।এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি ও ওকলাহোমায় পেশাগত প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পাবেন নির্বাচিত ফেলোরা। এর মাধ্যমে দেশটির ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ ইয়াসির আলম বলেন, এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত হওয়া তাঁর জন্য সম্মানের। তিনি এটিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক পরিবেশ থেকে শেখা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।২০১৭ সালে হোম সার্ভিস টেইলারিংয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফিয়েরো। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বেসপোক, মেড-টু-মেজার ও কাস্টম পোশাক তৈরি করছে। দেশীয় গ্রাহকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্রাহকদেরও সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ফিয়েরোর।এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অতিথি বক্তা হিসেবেও আমন্ত্রণ পেয়েছেন ইয়াসির। সেখানে ‘বিয়ন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং: ডিজাইন, ইনোভেশন অ্যান্ড গ্লোবাল পারস্পেকটিভস ফ্রম বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্প, ডিজাইন, উদ্ভাবন এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলবেন তিনি। পাশাপাশি ফ্যাশন উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি আলোচনা অধিবেশনেও অংশ নেবেন।ফেলোশিপ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা ফিয়েরোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কাজে লাগানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এর রানওয়েতে হেঁটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল রাকিব হাসান। এবারের আয়োজনে একমাত্র বাংলাদেশি মডেল হিসেবে অংশগ্রহণ করে তিনি দেশের ফ্যাশন অঙ্গনের জন্য বিশেষ গৌরব বয়ে এনেছেন।২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রাকিব হাসান। নতুন পরিবেশে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন পথচলা। ফ্যাশন জগতে কাজের অভিজ্ঞতা ও মডেলিংয়ের প্রতি গভীর আগ্রহকে সঙ্গী করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ফ্যাশন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এই তরুণ মডেল।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হাইল্যান্ড এলাকার ডলবি থিয়েটারে আয়োজিত লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এর রানওয়েতে অংশ নেন রাকিব হাসান। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের এই মঞ্চে একজন বাংলাদেশি মডেল হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য অর্জন।রাকিব হাসানের এই অংশগ্রহণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং মডেলিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে অনুপ্রাণিত করছে।নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে রাকিব হাসানের এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও সাফল্যমণ্ডিত হবে বলে প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আগামী দিনে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে দেশের পরিচিতি তুলে ধরবেন তিনি—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।
৫ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারে সহযোগিতা জোরদারে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, এমপি।সিউলে ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন—এনইএসএ এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া—সিএকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি।এ সময় বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কোরিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
১ সপ্তাহ আগে
মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তদন্ত ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে মক্কা অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সাজা বাস্তবায়ন করা হয়।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। প্রতিবেদন আজেল নিউজের।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধের গুরুতরতা এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিবেচনামূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ রায় বহাল রাখে। এরপর দণ্ড কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বুধবার মক্কা অঞ্চলে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন প্রয়োগে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকেও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।সূত্র: আজেল
২ সপ্তাহ আগে