নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:৩২:০০
দেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
দেশকে আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ জন্য জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহী জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে।
সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এই চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা। দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার একটাই গর্বিত পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয় আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। ৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী জনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখে সমরে লড়াই করেছেন।
তিনি বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ এর ফ্যাসিবাদী বিরোধী গণঅভ্যুত্থান, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপস করেননি।