নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১১:০৭:৩৪
চাঁদা নিয়ে সড়কমন্ত্রীর বক্তব্যে আপত্তি তাসনিম জারার
সড়কে চাঁদা আদায় নিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
এরআগে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা।’
ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাসনিম জারা বলেন, ‘মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়।
‘একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এই অলিখিত চাঁদা, আর পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত এই অর্থের বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তাদেরই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি এই অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।’
তাসনিম জারা বলেন, ‘রাস্তায় অনানুষ্ঠানিকভাবে টাকা তোলা বন্ধ করতে হবে। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অথবা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সঙ্গে যুক্ত করে এই অর্থ আদায় করা যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করতে হবে এবং এই অর্থ কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে, তা প্রকাশ করতে হবে। এই অর্থ সাধারণ চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়, বরং যাত্রী ও ভোক্তাদের কাছ থেকেই আসে। তাই সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া।’