নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:১১:৫৯
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নামে সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন: লেবার পার্টির চেয়ারম্যান
ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা করে বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, অবিলম্বে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নামে জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের আয় কমছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, এর মধ্যেই সরকার রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেল কোনো বিলাসপণ্য নয় এটি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, পরিবহন, শিল্প ও জনজীবনের চালিকাশক্তি। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ির ভাড়া বাড়ে না, বাড়ে কৃষকের সেচ ও উৎপাদন ব্যয়, বাড়ে পণ্য পরিবহন ব্যয়, শিল্পের উৎপাদন খরচ এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তের বোঝা সরাসরি জনগণের ঘাড়ে চাপবে।
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সরকারের নীতির ব্যর্থতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লোকসানের দায় জনগণ কেন বহন করবে? জনগণের পকেট কেটে কোনো অর্থনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যায় না। রাষ্ট্রকে আগে অপচয়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নআয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী। মানুষের আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ানো কোনো জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না। সরকারকে মনে রাখতে হবে, জনগণ রাষ্ট্রের বোঝা বহন করার জন্য নয়; রাষ্ট্র জনগণের জীবন ও অধিকার সুরক্ষার জন্য। তাই জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে সরকারকে জনবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার বা পুনর্বিবেচনা, গণপরিবহনের ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।