নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৫৭:৫২
যারা ৭১ কে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না : মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা ’৭১ কে ভুলে যেতে চায় এবং ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনো বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী। সম্মিলিত সনাতন পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির লোকেরা দুর্গাপূজায় আপনাদের সঙ্গে থেকেছে, যাতে কোনো রকমের দুর্বৃত্ত কোনো সুযোগ না পায় সমস্যা তৈরি করার। আপনারা দেখেছেন, রথযাত্রায় আমি নিজে গিয়েছিলাম। আমাদের সরকার সবসময় আপনাদের সঙ্গে থাকছে, যাতে করে নিরাপদ বোধ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। আপনাদের আমাদের সঙ্গে যেন কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সেটি দেখতে চাই। একটি মহল খুব সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আপনারা নিশ্চয়ই সেটা লক্ষ্য করেছেন। নিশ্চয়ই সেটা দেখেছেন। আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিগত নির্বাচনে আপনাদের সনাতন ধর্মের মানুষেরা আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিকে, তারেক রহমান সাহেবের রাজনীতিকে যে অত্যন্ত সমর্থন দিয়েছেন, এজন্য আমরা আপনাদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা এই পরিবেশটা ধরে রাখতে চাই।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের একটা স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশটা মানুষের জন্য। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, আমি কখনোই আপনাদেরকে সংখ্যালঘু মনে করি না। আমি মনে করি, আপনারা এদেশের সন্তান, এদেশে আপনাদের সমান অধিকার। আজকে আমাদের অনেক সমস্যা আছে, অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, অনেক চড়াই উতরাই পার হতে হচ্ছে, একটা ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট পার হতে হচ্ছে। ১৫ বছরে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। একটা ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এখন আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি—গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। আসুন আমরা সেই চেষ্টা করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কৃষ্টি, আমাদের সংস্কৃতিকে সামনে রেখে, আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সঙ্গে রেখে, আমরা ২০২৪-কেও সামনে রেখে এগিয়ে যাব। আমরা কোনোটাকেই বাদ দিতে চাই না। একটা কথা বলি, যারা ’৭১ কে ভুলে যেতে চায়, ভুলিয়ে দিতে চায় তারা কখনো বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না। ১৯৭১ সালকে অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই সামনে আনতে হবে এবং সেটাকে নিয়েই আমরা। এটাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। এজন্যই আমাদের অসংখ্য সন্তান বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে এবং একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। এ বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কোনোটাই আমরা ছোট করে দেখি না। ধর্মের ভিত্তিতে যারা দেশকে বিভাজন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে এক উদারপন্থি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।