নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:৩৪:২৪
সংবিধান পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি, বিদ্রোহ করবো না: বিরোধীদলীয় নেতা
বর্তমান সংসদ গ্যালারিকেই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ উল্লেখ করে সারাবিশ্বের সব বাংলাদেশি সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলের অনেকে ৭২ এর সংবিধানকে সম্মান করেন। এটি করতে পারেন না। কারণ ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করে গেছেন জিয়াউর রহমান। আর আমাদের এমনভাবে বলা হয়, যেন আমরা সংবিধান মানি না। কিন্তু যতক্ষণ এই সংবিধান আছে, পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি, কিন্তু বিদ্রোহ করবো না।
মানুষকে তার মতো করে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দল এবং আদর্শের ভিত্তিতে নয়, মেরিট এবং কমিটমেন্টের ভিত্তিতে যাতে সব নাগরিককে মূল্যায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই যাতে তা হয়। আজ সরকারি এবং বিরোধী দল এক হয়ে কমিটি হওয়ায় মানুষ আস্থা রেখেছে। সংকট কাটতে শুরু করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আমরা বিরোধী দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে আসিনি, ২০ কোটি মানুষের কথা বলতে এসেছি। সব ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করবো। খারাপ হলে বসে থাকবো না, সমালোচনা করবো।
শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান কারো মুখের দিকে তাকিয়ে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেনি। যেই মজলুম হবে, তার পক্ষে আমাদের থাকতে হবে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে। সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, একজন প্রভুরও দরকার নেই।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারো চোখ রাঙানিকে আমরা সহ্য করবো না। সরকার এই প্রকল্প শুরু করলে আমি সরকারের পাশে থাকবো।
জামায়াত আমির বলেন, ৪৭ কে সম্মান করি। ওই সীমারেখাটাই বাংলাদেশের সীমানা। বরং কিছু নদী চলে গেছে প্রতিবেশীদের পেটে।
অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে জড়িয়ে যারা অশ্লীলতা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিচার চাননি, আমি বিচার চাইলাম। উনার মেয়ে মানে আমার মেয়ে। এই ইতর কারা, বের করে আনা হোক। নোংরা ধারা বন্ধ করা উচিত। অপরাধীকে খুঁজতে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। এরা নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। আমরা শপথ নিই আমরা এদের নির্মুল করব।
নতুন ইতিহাস রচনা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ঐক্যের ডাক দেয়ার আগে দা-কুড়াল ফেলে দিন। আর ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে, নিজেরা ইতিহাস রচনা করতে পারবো না। যে অন্যের দোষের তালিকা করে, সে মহৎ হতে পারে না। যে নিজের দোষ খুঁজে পায়, সেই মহৎ।
এছাড়া সংসদ অধিবেশন দেখতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়ায় সাধুবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। পাশাপাশি ্সংসদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এক মাসের সমপরিমানের ইনটেনসিভ দেয়ারও আহ্বান জানান
বিরোধীদলীয় নেতা।