নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬ রাত ০৯:২৩:৩৪
বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: দুদক
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্রিয় তৎপরতার মধ্যে রয়েছে।
রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মামলা পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই দুটি মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতেই দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুসরণ করে তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, উচ্চপদস্থ কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা একটি বিরল ঘটনা।
এদিকে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক ইতোমধ্যে এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, “আমরা আশা করছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় খুব দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া যাবে। এতে করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কত দ্রুত বাংলাদেশের আদালতের আওতায় আনা সম্ভব হয়।