নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ রাত ১০:৩৭:২৫
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা’ শীর্ষক সুপারিশমালা প্রণয়নবিষয়ক এক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ। সঞ্চালনা করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। আলোচনায় অংশ নেন চুয়েটের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম মজুমদার, বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) প্রকৌশলী মো. শওকত ফেরদৌস, স্রেডার পরিচালক প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন, বিইআরসির পরিচালক প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদারসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী।
বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আমদানিনির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে অনশোর ও অফশোর ব্লকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
আলোচনায় আরও বলা হয়, এলএনজি, কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তোলা প্রয়োজন। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই, জ্বালানি সরবরাহ সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশও করা হয়।
কর্মশালায় আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের নেতা এবং বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।