নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:৫০:৫৯
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসটিআই
দেশের অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বিএসটিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় বিএসটিআই। সংস্থাটি বলেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে, এমনটি মনে করে বিএসটিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথম মাইক্রোবিড-ফ্রি ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৫-তে টুথপেস্টসহ ধৌতযোগ্য কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইন মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।
বিএসটিআই বলেছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষার পদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বিএসটিআই বলেছে, টুথপেস্ট পণ্যের জন্য বাংলাদেশ নির্ধারিত মান (স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। সেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারসংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও উক্ত স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে সনদ দেওয়ার আগে টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।
সংস্থাটি আরও বলেছে, শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য আরও বিস্তারিত পরীক্ষা, কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বিএসটিআই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান ও সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিএসটিআই ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্তচিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে বলে জানায় সংস্থাটি।