নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:৩১:৩৪
হাসনাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপে নবীনের শোরুম চালু হচ্ছে
কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপে নবীন ফ্যাশন তাদের কার্যক্রম আবারও শুরু করছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।
ঘোষণায় বলা হয়, ঈদের আগের দিন মগবাজার শাখা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এবার ঈদ আনন্দ উৎসব ১৫ দিনব্যাপী চলবে, ইনশাআল্লাহ। হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি এবং বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জনাব হেলাল সাহেবের উদ্যোগে মগবাজার শাখা ছাড়া অন্যান্য শাখা চালু করা হচ্ছে। এসব শাখায় থাকছে আকর্ষণীয় অফার।
এ ছাড়া নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চীন থেকে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ঈদ উৎসবের শুভেচ্ছা জানাবেন, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে থাকা নবীন পাঞ্জাবির মালিক এনামুল হাসান নবীন ঢাকা ছাড়েন। মঙ্গলবার রাতে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ছবি যুক্ত করে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই ছবিতে এনামুল হাসান নবীনসহ তার আরও কয়েকজন সঙ্গীকে দেখা গেছে।
ফেসবুক পোস্টে এনামুল হাসান নবীন লেখেন, সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
এদিন মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানেও দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন নবীন ফ্যাশনের মালিক।
সংবাদ সম্মেলনে নবীনের মালিক বলেন, আমাদেরকে মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে ৪৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি করা যাবে না আর ১৫০০ টাকার নিচে পাজামা বিক্রি করা যাবে না। তারা এই সিন্ডিকেট সবসময় নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তবে আমাদের লাখো গ্রাহকের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা। এর কারণে যদি আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাহলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দিব। আমি আবার প্রবাসে ফিরে যাব। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ব্যবসা করা হবে না।
এনামুল হাসান বলেন, আমাদেরকে ফোন দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে যে সব শোরুম বন্ধ করে দেব যদি ভিডিও ডিলিট না করো। আমরা তো ভিডিও করিনি, আমাদের এক গ্রাহক ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছে সেখান থেকে সংবাদকর্মীরা ভিডিওগুলো নিয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ গরীব দুঃখী অসহায়দের মাঝে আমরা বিতরণ করে থাকি। ব্যবসার লাভ্যাংশ দিয়ে আমরা গরিব-দুঃখী অসহায়দের খাবার বিতরণ করে থাকি। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকি। তারপর থেকে আমরা সবসময় মিডিয়ার আড়ালেই থেকেছি। কখনোই সামনে আসি নাই।
নবীনের মালিক আরও বলেন, আমরা ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করি। এ ছাড়া আমাদের বিভিন্ন মূল্যের প্রোডাক্ট আছে যেটা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। কারণ, আমাদের প্রোডাকশন কস্ট কম আমাদের কোম্পানিতে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, আগে মাদকাসক্ত ছিলেন এখন ভালো হয়ে গেছেন এমন লোক আমাদের এখানে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক বাধা উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমাদেরকে সরকার সহযোগিতা সরকার করবে এই প্রত্যাশা আমরা সবসময় করি কিন্তু আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা কখনই সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি। সহযোগিতা পায় সিন্ডিকেটরা, বড় বড় ব্যবসায়ীরা যারা বড় অংকের লোন নেয় ব্যাংক থেকে নিয়ে ঋণ খেলাপি হয়। আমরা জনগণের জন্য যদি কিছু করতে চাই সেক্ষেত্রে আমাদেরকে একটা ভয়-ভীতি দেখানো হয়।
এর আগে গত ২০ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগের দিন কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক রাজধানীর মগবাজারে ‘নবীন ফ্যাশন’ এর দোকান বন্ধ করে দেয়। কমদামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান প্রতিবেশী দোকানদাররা।