নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৭:৫৩
বাংলাদেশ থেকে পালানো কোনো সন্ত্রাসী যেন ভারতে আশ্রয় না পায়: হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন ভারতের ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, আমরা যেভাবে ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেব না, ঠিক একইভাবে আশা করি যে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি কনফারেন্স বাতিল করেছে সেখানকার প্রশাসন। এ বিষয়টি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ আশা করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সদিচ্ছা তৈরির পথও সুগম হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, এখনো সফরের কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে উপযুক্ত সময়ে সফরটি হবে।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে সফরের তারিখ ঠিক করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বৈঠকের আগে সফরটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, আমরা এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।
দুই দেশের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে গিয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো তারিখ নির্ধারণ না হওয়া মানেই আলোচনা থেমে যাওয়া নয়। দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছিল। এই আলোচনার মধ্যেই ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখন আবারও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ বৈদেশিক সম্পর্কে একটি ভারসাম্য বজায় রাখছে।
তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
হুমায়ুন কবির বলেন, এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে বাংলাদেশকে আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। এ জন্য বড় এয়ারক্রাফট বহর প্রয়োজন।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাদের বহরে ১৫০টিরও বেশি উড়োজাহাজ রয়েছে। অন্যদিকে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান চাহিদার সংখ্যাটি হয়তো এত বেশি নয়, তবে আমাদের বোয়িং বা এয়ারবাস কিনতে হবে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা বোয়িং বিমান কিনব।
বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত কোনো চাপের কারণে নেয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো চাপের কারণে নয়। বরং দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় এয়ারক্রাফট বহর নেই। তাই বহরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে নতুন রুট চালু করা সম্ভব হবে না এবং ব্যবসা হারাতে হবে।
এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশের রাজস্ব ও যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘমেয়াদে উড়োজাহাজ কিনতেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে বাংলাদেশের সেই অর্থনৈতিক সক্ষমতা বা উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের এভিয়েশন খাতের চাহিদা পূরণ করতে হবে, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের রুটগুলোর একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে তৈরি করতে হবে।