নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০২:৪০:৫৪
অবসরের চিঠিতে মেসির ম্যাজিক হ্যারি পটার!
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরেরও বেশি সময়ের লম্বা পথচলার ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। তবে তার এই বিদায় কোনো সাধারণ ঘটনার মতো ছিল না। তিনি যেন এক সুন্দর রূপকথা তৈরি করে বিদায় নিলেন। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো নিয়ে বানানো একটি আবেগঘন ভিডিও এবং হাতে লেখা একটি তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে ইতি টানলেন এই সোনালী অধ্যায়ের।
মেসির অবসরের খবরের চেয়েও মেসির চিঠির সঙ্গে পোস্ট করা ছবিটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে। যেই ছবির প্রতিটি উপাদানের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে বিশেষ এক অর্থ।
একটি নোটপ্যাডের ছেঁড়া তিনটি পাতায় সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে নিজের মন থেকে বের হওয়া প্রতিটি কথা ফুটিয়ে তুলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। চিঠির প্রথম বাক্য থেকেই বোঝা যাচ্ছিল সিদ্ধান্তটা তার জন্য কতটা কঠিন ছিল। ২০ বছরের লম্বা পথচলার মিষ্টি-মেঠো স্মৃতি তুলে ধরে শেষ লাইনে তিনি লিখেছেন সেই ভালোবাসার কথা—‘আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!’ তবে ভক্তদের নজর সবচেয়ে বেশি কেড়েছে চিঠিটির উপরে রাখা একটি সোনালি রঙের হ্যারি পটার কলম।
মেসি যে কলমটি দিয়ে বিদায়ের চিঠি লিখেছেন, সেটি কোনো সাধারণ কলম নয়। কলমটির ওপরের অংশে রয়েছে বিখ্যাত ‘টাইম-টার্নার’—যা জে. কে. রোউলিংয়ের জনপ্রিয় হ্যারি পটার সিরিজের হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের একটি অতি পরিচিত জাদুকরী বস্তু। এর ঐতিহ্যবাহী গোলাকার আকৃতি এবং মাঝখানে একটি ছোট বালুঘড়িযুক্ত সোনালি প্রলেপের এই কলমটি ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মেসি ও তার পরিবার যে এই জাদুকরী সিরিজের দারুণ ভক্ত, তা কারোরই অজানা নয়।
বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবলে এর ভেতরের মূল অর্থ ধরা পড়ে। হ্যারি পটারের গল্পে যেমন সময় পেছনে নেওয়ার কথা থাকে, মেসিও যেন সেই কলমটি বেছে নিয়ে সংকেত দিলেন নিজের কেটে যাওয়া ২০ বছরের দিকে। ব্যর্থতা, সমালোচনা, একের পর এক ফাইনালে হার, আর তারপর ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়—সবকিছু বাদ দিয়ে মেসি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে অতীতে ঘুরিয়ে নিয়ে গেলেন।
একটি খুব সাধারণ নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটি পাতায় সাজানো ছিল মেসির আন্তর্জাতিক জীবনের গল্প। পাতার ওপরের তারিখ ও ছোট ছোট ঘরগুলো খালি রেখেই সরু টানের কালো কালিতে মন খুলে লিখেছেন তিনি। মাঝপথে কিছু ভুল কাটাকাটি প্রমাণ করে, এটি তিনি আগে থেকে সাজিয়ে লেখেননি, বরং আবেগ থেকেই এটি সঙ্গে সঙ্গে লেখা।
প্রথম পাতা: এই পাতায় মেসি তার ক্লান্তি আর সর্বোচ্চটা দেওয়ার অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি... নিজেকে একদম খালি করে দিয়েছি, আমার মধ্যে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’
দ্বিতীয় পাতা: এই পাতায় তিনি দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় সতীর্থ, পরিবার, কোচিং স্টাফ ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।’
তৃতীয় পাতা: আর শেষ পাতায় এসে ধরা দিয়েছে নিখাদ আর্জেন্টাইন ভালোবাসা। শেষটা তিনি করেছেন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আর দেশের ফুটবলকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে।
চিঠির পাশাপাশি একটি হৃদয়ছোঁয়া ভিডিও শেয়ার করেছেন মেসি। সেখানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম পা রাখা থেকে শুরু করে বড় সব টুর্নামেন্ট, ট্র্যাজিক মুহূর্তগুলো এবং ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের ছবিগুলো ভেসে উঠেছে। চিঠির পাতার লেখাগুলোর সঙ্গে ভিডিওটি যেন মেসির সেই কথাগুলোর জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।
ফুটবলপ্রেমীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন সেই পুরোনো কথা, কীভাবে একদিন বার্সেলোনার সঙ্গে একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপারে চুক্তি করেছিলেন মেসি। সেই ন্যাপকিন পেপার যেমন ফুটবলের ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি মেসির এই তিনটি সাধারণ পাতা আর বিশেষ হ্যারি পটার কলমটিও ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।