শাফি উদ্দিন আহমদ
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ রাত ০৯:২৭:৩২
স্থবির দুদকে অভিযোগের পাহাড়
# আড়াই মাসেও নিয়োগ হয়নি চেয়ারম্যান ও কমিশনার
# প্রতিদিন জমা পড়া শত শত অভিযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় কমিশন
# থমকে আছে অভিযান
দেশে দুর্নীতি রুখতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একমাত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত আড়াই মাস ধরে অভিভাবক শুন্য। অন্তবর্তী সরকারের সময় ৫ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া কমিশন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন অনেকটা নাটকীয়ভাবে। এরপর আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও নতুন কমিশন গঠন হয়নি। কমিশনহীন দুদকে প্রতিদিন জমা পড়া শত শত অভিযোগ। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য পাঠানোর মতো বৈধ কর্তৃত্ব অন্য কর্মকর্তাদের হাতে না থাকায় সব অভিযোগ ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল, নতুন অনুসন্ধান, নোটিশ প্রদান, এমনকি ঘুষের বিরুদ্ধে ফাঁদ অভিযানও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি নেই এনফোর্সমেন্ট টিমেরও অভিযান। এ অবস্থায় দুদকের কমিশন কবে নিয়োগ হবে তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরী হয়েছে। যদিও কেই কেউ বলছে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আগামি জুন মাসের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন হতে পারে। অনেকটা ভেবেচিন্তে দক্ষ কমিশন গঠনে সরকার কিছুটা সময় নিচ্ছে।
দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনো এমন অচলাবস্থার মুখে পড়েনি সংস্থাটি। কমিশন না থাকায় পুরো প্রশাসনিক কাঠামো যেন সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে গেছে। বাইরে থেকে নিয়মিত কার্যক্রম চলমান মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তদন্ত, অনুসন্ধান ও আইনগত সিদ্ধান্তের বড় অংশ স্থবির হয়ে আছে।
দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান-২) মো. মোতাহার হোসেন চ্যানেল এস- কে বলেন, ‘আগের কমিশনের সময়ে যেসব অনুসন্ধান অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো সীমিত আকারে চলমান আছে। কিন্তু নতুন করে জমা পড়া অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। কমিশন না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে আছে।’
জমা পড়ছে অভিযোগ, সিদ্ধান্ত নেই অনুসন্ধানের:
দুদক সূত্র বলছে, পূর্ণাঙ্গ কমিশন থাকার সময় (অন্তবর্তী ও আওয়ামীলীগ সরকারের সময়) প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ত। এর মধ্যে ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ–বাণিজ্য, প্রকল্প দুর্নীতি ও সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ। এসব অভিযোগ প্রথমে চেয়ারম্যানের দপ্তরে যেত, পরে কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচাই-বাছাই সেলে পাঠানো হতো। যাচাই শেষে যেগুলো তফসিলভুক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলো অনুসন্ধানের অনুমোদন পেত। কিন্তু গত আড়াই মাসে সেই পুরো প্রক্রিয়াই থেমে আছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অন্তত ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু কোনটি অনুসন্ধানযোগ্য, কোনটি নয়-সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। সব অভিযোগ চেয়ারম্যানের দপ্তরে জমে আছে।
দুদকের পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমান আইনে অভিযোগ যাচাই সেলে পাঠানোর ক্ষমতাও কার্যত কমিশনের হাতে। চেয়ারম্যান না থাকায় অভিযোগ শুধু জমা হচ্ছে, কিন্তু পরবর্তী ধাপে যাচ্ছে না। এতে ভেতরে ভেতরে বিশাল এক জট তৈরি হয়েছে।’
কর্মকর্তারা জানান, অন্তবর্তী সরকারের সময় আওয়ামীলীগ আমলে মন্ত্রী এমপি ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আমলা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বিভিন্ন বাহিনীর সাবেক কিছু প্রভাবশীলী কর্মর্কাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সব কার্যক্রমে এখন ভাটা পড়েছে কমিশন না থাকা। অনুসন্ধান শেষ হলেও মামলা করার মতো অনুমোদন মিলছে না কমিশনা না থাকায় আবার অনেক মামলার তদন্ত শেষ হলেও অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ফলে সেগুলো আদালতে জমা দেওয়া যাচ্ছে না।
থেমে গেছে ফাঁদ অভিযান ও এনফোর্সমেন্ট:
দুদকের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কমিশনের কড়া নজরদারির কারণে কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ ছিল। একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০টি অনুসন্ধান ও সমপরিমাণ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পালন করতে হতো। নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হতো কমিশনকে। ঘুষের বিরুদ্ধে ফাঁদ অভিযান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট অভিযান—সবই ছিল সক্রিয়। এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশন না থাকায় মাঠপর্যায়ে কার্যত কোনো তদারকি নেই। নতুন অনুসন্ধান নেই, অভিযান নেই, জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশও দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তা এখন পুরোনো ফাইল গুছিয়ে সময় পার করছেন।’
দুদকের ভেতরের আরেকটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে জনআস্থা। কর্মকর্তাদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের গতি কমে যাওয়ায় অভিযুক্তদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, দুদক আবারও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের শিকার হয়েছে।
কমিশনহীন দুদক সচল রাখতে আইনের সংশোধন:
বর্তমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধনী খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার না থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে দুদকের সচিব মহাপরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যক্রম চালাতে পারবেন। পরে কমিশন গঠিত হলে সেই সিদ্ধান্ত কমিশনকে অবহিত করতে হবে। সচিবের গৃহীত সিদ্ধান্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান আইনে সব ক্ষমতা কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে পুরো কমিশন একসঙ্গে পদত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না হয়, সেজন্যই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সংশোধনী খসড়ায় কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং, বিদেশে অর্থ পাচার, কর ও শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ, পুঁজিবাজার জালিয়াতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও জালিয়াতিকেও দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিতর্কিত ৩২ (ক) ধারা বাতিলেরও প্রস্তাব এসেছে। এই ধারায় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা অনুসরণের বাধ্যবাধকতা ছিল। উচ্চ আদালত আগেই ধারাটি অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া তদন্ত ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা শিথিল, গোপন অনুসন্ধান পরিচালনা, কর্মকর্তাদের সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদেশি নাগরিকত্বধারীদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবও রয়েছে সংশোধনীতে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা:
দুদক সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২৫ সালে একটি সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। সেখানে কমিশনার নিয়োগে সাত সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়। কমিটিতে বিচারপতি, সিএজি, পিএসসি চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি নারী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ কমিশনার অন্তর্ভুক্তির কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল করা হয়। ফলে আগের পদ্ধতিতে কমিশন নিয়োগের বিষয়টি বহাল থাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কাঠামো নাকি পুরোনো পদ্ধতি-এই দ্বন্দ্বের কারণেই কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দুদকে একাধিকবার নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করে। এর ফলে চতুর্থবারের মতো কমিশনশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর আগেও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমিশনকে বিদায় নিতে হয়েছে। দুদকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যদি দুদকের নেতৃত্বও বদলে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।
চ্যানেল এস - এর সাথে আলাপকালে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘দুদকের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আড়াই মাস কমিশন না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু প্রশাসনিক স্থবিরতাই তৈরি হয় না, দুর্নীতিবিরোধী বার্তাও দুর্বল হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান দেখাতে চায়, তাহলে দুদকের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আইনের বড় দুর্বলতা হলো-সব সিদ্ধান্ত কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে পুরো কমিশন একসঙ্গে সরে গেলে প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ে। আইন সংশোধনের উদ্যোগ বাস্তবসম্মত হলেও সেটি যেন ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।”
তার মতে, ‘দুদকের স্বাধীনতা শুধু আইনে লিখে দিলেই হয় না। বাস্তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে কমিশন পরিবর্তনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এই প্রতিষ্ঠান বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হবে।’
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি চ্যানেল এস-কে বলেন, দুদকের ‘কমিশন’ গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের কাজ শিগগির শুরু হতে পারে। এই মুহূর্তে সার্চ কমিটি করা হলে দুদকের আগের আইনেই কমিশন গঠন করা হবে। দুদক আইন সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দুদক আইন-২০০৪ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা হলেন– সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ী সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যক্তির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি একাধিক সভা করে দুদকের নতুন তিন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ছয় ব্যক্তির নাম পাঠাবে। পরে রাষ্ট্রপতি ছয় থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এই তিনজনের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এই দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল থেকেই দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে।