ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।টেলিগ্রামে পোষ্ট করা এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, তারা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিও খবর দিয়েছে যে, নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রোবাবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, ‘ইরানের এই প্রকাশ্য আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর’ থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ পর্যন্ত মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।এরআগে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে তেহরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ৯২ শতাংশই প্রতিহত করেছে ইসরায়েল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।তিনি বলেন, ‘ইরান ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার হারও চমৎকার। আমাদের সফলতার হার প্রায় ৯২ শতাংশ।’এদিকে শনিবার রাতে ইসরায়েলে পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী দুটি শহরে- আরাদ ও দিমোনায় হামলা চালায় ইরান। এসব হামলায় অন্তত ১৬০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার ঘটনায় আরাদে ৮৪ জন এবং দিমোনায় আরও ৭৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতি ইরানোর ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, শনিবার ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে ওই হামলা চালানো হয়েছে।সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
৪ ঘন্টা আগে
ভারতে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে আনা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সাজাভোগ শেষে বিভিন্ন সেফ হোমের হেফাজতে ছিল তারা। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হল।কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে উদ্ধার এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।এছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিল।যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে ভারত বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেখান থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪ ঘন্টা আগে
সুনামগঞ্জে ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সাফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত সাফিকুল ইসলাম শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাফিকুল ইসলাম তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে যাচ্ছিলেন। পথে গাগলী এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।আহতদের মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত গুলজার আহমদ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আমজাদ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সাফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্যাহ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
৫ ঘন্টা আগে
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।রোববার দুপুরে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ভরাট গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।আহতরা হলেন—দক্ষিণ ভরাট গ্রামের নবাব আলীর ছেলে হাসান আলী (৫০), সফেদ হালসানার ছেলে রহমত আলী (৪৫), মিনারুল ইসলামের স্ত্রী খুশি আরা খাতুন (৩০), মৃত দাউদ মন্ডলের ছেলে মিনারুল হোসেন (৩৮), ভরাট গ্রামের কালু শেখের ছেলে প্রবাসফেরত মিঠুন হোসেন (৩২) এবং উত্তর ভরাট গ্রামের কাবাতুল্লাহর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩০)। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী সহড়াতলা গ্রামের সাহাজুল ইসলামের মেয়ে লাকি খাতুনের সঙ্গে উত্তর ভরাট গ্রামের মিঠুন আলীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে মিঠুন প্রবাসে গেলে লাকি খাতুন দক্ষিণ ভরাট গ্রামের শিমুল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মিঠুনকে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেন বলে জানা যায়।এদিকে, শিমুল প্রবাসে চলে যাওয়ার পর লাকি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ খবর পেয়ে মিঠুন আলী দেশে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, রোববার দুপুরে তিনি ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে শিমুলের বাড়িতে গিয়ে লাকিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।শিমুলের বাবা টিপু সুলতান অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতিতে একদল লোক বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং তার পুত্রবধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তার আত্মীয় হাসান আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।অন্যদিকে, লাকি খাতুন দাবি করেন, আগের স্বামী মিঠুন তাকে ভরণপোষণ দিতেন না এবং গালাগাল করতেন। তাই তিনি ছয় মাস আগে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেন। তার অভিযোগ, মিঠুন লোকজন নিয়ে এসে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যান।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠুন আলী বলেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে কি না তিনি জানেন না। তার দাবি, লাকি তার কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে গেছেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়।গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ ঘন্টা আগে