নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ মে ২০২৬ বিকাল ০৩:২৩:২৬
জনতার সংসদের ডাক গণবিপ্লবী উদ্যোগের
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধানের দাবিতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী কর্মসূচি ‘জনতার সংসদ’-এর ডাক দিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণে এই বিকল্প সংসদ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সময় ও স্থান জানানো হবে।
আয়োজকদের দাবি, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আত্মত্যাগের পর সাধারণ মানুষ আশা করেছিল সংসদ হবে গণমানুষের কণ্ঠস্বর। কিন্তু বাস্তবে জনজীবনের মৌলিক সংকটগুলো সমাধানে বর্তমান সংসদ ব্যর্থ হচ্ছে। টং দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত—সবখানেই সংসদের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা থাকলেও জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল বলেন, “জুলাইয়ের রক্তাক্ত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, তার প্রথম অধিবেশনেই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক জনগণ বুঝতে পেরেছে। জ্বালানি তেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, সংস্কার কার্যক্রম বাতিল করে গুম ও হয়রানির পথ আবারও উন্মুক্ত করা, স্বাস্থ্যখাতের ব্যর্থতা—কোনো ক্ষেত্রেই সংসদ কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “যে জনগণ এই সংসদকে নির্বাচিত করেছে, তাদের অবজ্ঞা করে সার্বভৌমত্ব সংসদের—জনগণের নয়, এমন দাবি তোলা হয়েছে। অথচ এই সংসদ পরিচালনায় প্রতি মিনিটে জনগণের পকেট থেকেই লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।”
সংস্কার প্রশ্নে আপসের সমালোচনা করে আরিফ সোহেল বলেন, “জুলাই-পরবর্তী সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস হওয়ার কথা না থাকলেও সংসদে ‘মিনমিনে বিরোধিতা’র মাধ্যমে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গণবিপ্লবী উদ্যোগ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের নিয়ে জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে আলোচিত কিংবা অনালোচিত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নাগরিক সংলাপের আয়োজন করছে। এই সংলাপ সংসদীয় পদ্ধতিতেই হবে এবং জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”
তিনি দাবি করেন, “এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় সংসদ কোথায় কোথায় জনআকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আবার সামনে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই শেষ কথা। আইন, সংসদ কিংবা আদালত—সবই জনগণের ইচ্ছার অধীন।”
অংশগ্রহণের উপায়
কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য একটি রেজিস্ট্রেশন লিংক চালু করা হয়েছে। আগ্রহীরা ফেসবুকে “People’s Revolutionary Initiative - PRI” পেজে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন।