নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫:৪৫
ইরান আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্য পথে’ যাবে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অন্য পথে’ যাবে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন কূটনীতিকে সফল করার জন্য সব ধরনের সুযোগ দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
২৫ মে সোমবার ভারতের নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে হয় ভালো একটি চুক্তি হবে, নয়তো আমরা বিষয়টি অন্যভাবে মোকাবিলা করব। তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ দেখালেও আলোচনায় তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সময়সীমাবদ্ধ ও বাস্তবসম্মত আলোচনার বিষয়ে একটি ‘মজবুত কাঠামো’ টেবিলে রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, চুক্তি চূড়ান্ত, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।
তবে ইরানের সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ দাবি করেছে, ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও বাধা সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
তবে এখনও বেশ কিছু জটিল ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে হিজবুল্লাহকে সমর্থন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের তেলের আয়ের অর্থ ছাড়ের দাবি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান নীতিগতভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নিতে পারে।
তবে কীভাবে ইউরেনিয়াম অপসারণ করা হবে, সেটিই এখন মূল আলোচনার বিষয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়াম পাতলা করার মতো কার্যকর সমাধান বিবেচনায় রয়েছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযোগ করে, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এপ্রিলের শুরু থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।