আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ রাত ০৮:২৩:৪৪
বিশ্বকে যে বিষয়ে নিশ্চিত করতে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানালেন পেজেশকিয়ান
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে না, এ বিষয়ে বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রবিবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনও ধরনের অস্থিরতা তৈরি করা ইরানের লক্ষ্য নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান তাদের ‘সম্মান’ নিয়ে কোনও আপস করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ান আরও জানান, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর বাইরে এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইছি না, এ বিষয়ে বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে আমরা প্রস্তুত। আমরা এই অঞ্চলে কোনও ধরনের অস্থিতিশীলতা চাইছি না।’
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা অঞ্চলে কোনও অশান্তি চাই না।’ উল্টো ইসরায়েলের দিকে আঙুল তুলে তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে মূলত ইসরায়েল।’
ইসরায়েলকে ধ্বংস করার অঙ্গীকার করা ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজিরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগী স্তর থেকে মাত্র একটি সংক্ষিপ্ত প্রযুক্তিগত ধাপ দূরে রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই ইউরেনিয়ামকে যদি আরও সমৃদ্ধ করা হয়, তবে তা দিয়ে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি যখন প্রায় স্বাক্ষরের কাছাকাছি বলে মনে হচ্ছে, ঠিক তখনই পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের আলোচনা বা সমঝোতাকারী দল ‘কোনও অবস্থাতেই দেশের সম্মান ও গৌরব নিয়ে আপস করবে না।’
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অঞ্চলের অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাসহ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
তবে আলোচনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত কোনও দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত সব বিষয় চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
মার্কিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক মজুদ কমানো, সরঞ্জাম অপসারণ বা কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনা বন্ধ করার মতো প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে নিয়েছে। এরপরই মূলত পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র না খোঁজার বিষয়ে বিশ্বকে নিশ্চয়তা দেওয়ার এই বক্তব্য এলো।