নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:০৯:৫৫
যমুনার তীব্র ভাঙনে নাগরপুরে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে, বিলীন মসজিদ ও ফসলি জমি
যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় হাটবাজার।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনার তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই নদীতীর ধসে পড়ছে। ভাঙনের আতঙ্কে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক ভাঙনে পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতভিটা ও বহু গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২২ বছর পুরোনো একটি মসজিদও যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হক (৫০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মাত্র ১৩ শতাংশ জমির ওপর আমার বসতবাড়ি ছিল। এখন পুরো বাড়িই নদীতে চলে গেছে। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত সুফিয়ান (৫২) বলেন, “আমার একমাত্র ছাপড়া ঘরটিও গাছপালাসহ যমুনা গিলে খেয়েছে। এখন থাকার কোনো জায়গা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ জামাল জানান, “মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমিসহ আমার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।” একই ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন কালাম, ছালাম, বাবুল, শাহ আলম, মতিন, শাহিনসহ আরও অনেক পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় নদীভাঙন হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে বছরের পর বছর তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “যমুনার তীরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।”
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ভাঙন রোধে পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা সম্পন্ন হলে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।