রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:১৭:৫৬
মোংলায় স্কুলের মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-এলাকাবাসী
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা অবগত না করেই মাঠের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার ও শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে রাতের আঁধারে মাঠের বিভিন্ন অংশে মাটি কেটে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি মহলের সম্পৃক্ততায় পানি নিষ্কাশনের কথা বলে বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি কাটা হয়েছে।
তবে মাটি কাটার কাজ করা লাভলী মজুমদারের দাবি, বৃষ্টির পানিতে তার বাড়িঘর ও গাছপালা তলিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তার দেবর সুব্রত মজুমদারও এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন।
লাভলী মজুমদার বলেন, আমার বাড়িঘর, গাছপালা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি সরানোর জন্য প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেই মাঠের ভেতর দিয়ে পাইপ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে কাজ শুরু করি। এ জন্য নিজের ২০ হাজার টাকা খরচ করে পাইপ কিনেছি। দুই দিন কাজ করার পর প্রধান শিক্ষক কাজ বন্ধ করে দেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা।
তিনি বলেন, যারা বলছেন আমি অনুমতি দিয়েছি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সুব্রত বাবু আমাকে ফোন করে তাদের বাড়ির পানি সরানোর জন্য মাঠ দিয়ে পাইপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু স্কুলে এসে দেখি, মাঠের ভেতর থেকে চার-পাঁচ হাতের ড্রেন কেটে নেওয়া হচ্ছে। পরে ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া মাঠে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।
বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম বলেন, সকালে স্কুলে এসে দেখি খেলার মাঠটি খনন করা হয়েছে। আমার কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। কারা কাজটি করেছে, তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজমুল বাদশা বলেন, স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে মাঠে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা পুলক মন্ডল বলেন, যারা মাঠের মাটি কেটেছেন, তাদের বিচার চাই। এভাবে মাটি কাটার কারণে বাচ্চাদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাস বলেন, বিষয়টি প্রথম আপনাদের কাছ থেকেই জানতে পেরেছি। ভিডিও ও তথ্য দেখে মনে হয়েছে, এভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। প্রধান শিক্ষককে ইউএনও ও চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এভাবে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মকর্তার নেই। রাতের আঁধারে কারা কাজটি করেছে, তা খুঁজে বের করা হবে।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমি বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি কাটার অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন-বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর দিয়ে ড্রেন করার অনুমতি আসলে কে দিয়েছিল? লাভলী মজুমদারের দাবি, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রধান শিক্ষকের সম্মতি পেয়েই তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক বলছেন, তিনি এভাবে মাঠ কাটার কোনো অনুমতি দেননি।
শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজন থাকলেও বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।