নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৩:১৭
তিন গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনে ভঙ্গুর হয়ে পড়া রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি দেশের তিনটি গ্রামকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ যেভাবে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নেও সরকার সেভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মিল রয়েছে।
বিএনপির রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির রাজনীতি সবসময়ই জনবান্ধব। দেশ ও জনগণের উন্নয়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এমডিজি বা এসডিজির খুব বেশি অমিল নেই।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনে বাংলাদেশকে একটি ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সর্বক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এখন পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রাপথে এসডিজির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো গ্রহণ করেছে, যা জাতিসংঘের এসডিজির সঙ্গে সমন্বিত। সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’-এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সুসংহত করতে ‘থ্রি-আর’ বা ‘রিকভারি, রিহ্যাবিলিটেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন’ কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর বাস্তবায়িত হবে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় ও আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনার সুচিন্তিত পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। গ্রাম তিনটি হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু-এমপ্লয়মেন্ট, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে। সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশজুড়ে এই মডেল সম্প্রসারণ করা হবে এবং এটি বিশ্বের সামনে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।