মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:০৪:৪৩
রমজানের স্থবিরতা কাটিয়ে ঈদের পর্যটক প্রত্যাশায় শ্রীমঙ্গলের চাঁদের গাড়ি
দীর্ঘ রমজান মাসে পর্যটকশূন্য সময় পার করার পর ঈদকে সামনে রেখে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জনপ্রিয় পর্যটন বাহন ‘চাঁদের গাড়ি’। দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় চালক ও ব্যবসাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতি।
জানা যায়, পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ঘুরে দেখার অন্যতম আকর্ষণ এই খোলা জিপ আকৃতির গাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাঁদের গাড়ি’ নামে পরিচিত। খোলা ছাদের এই গাড়িতে দাঁড়িয়ে পাহাড় ও প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা। শ্রীমঙ্গলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টি ‘চাঁদের গাড়ি’ রয়েছে, যা মূলত দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। পর্যটকদের জন্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিজার্ভ ট্রিপ চালু রয়েছে। নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।
সরিজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সব মিলিয়ে রমজানের স্থবিরতা কাটিয়ে শ্রীমঙ্গল-এর পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এখন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত। পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে চাঁদের গাড়িগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে নতুন করে রং করা হচ্ছে গাড়িগুলো।
চাঁদের গাড়ির চালক আব্দুল কাদির বলেন, “রমজান মাসে একেবারেই কাজ ছিল না। দিন কাটানোই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা থেকে আসা পর্যটকদের কাছে শ্রীমঙ্গলের চাঁদের গাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল না থাকায় পর্যটকদের সেবা দিতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
আরেক চালক শামীম মিয়া জানান, “ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আগেই যোগাযোগ করছেন। ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন গাড়ি চালাতে পারবো বলে আশা করছি। এতে আমাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে।”
চাঁদের গাড়ি মালিক মোহাম্মদ সাগর আহমেদ বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদেশি পর্যটক কম আসার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দেশীয় পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গাড়িগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি পর্যটকদের নিরাপদ ও ভালো সেবা দিতে।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ১২২৩ এর কার্যকরী সভাপতি মোঃ ইউসুফ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর্যটকশূন্যতার কারণে পরিবহন খাত কষ্টে রয়েছে। তবে ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘চাঁদের গাড়ি’ নামে পরিচিত জিপ গাড়িগুলো। এসব গাড়ির মান উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এ খাতের উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রয়েছে।