শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:৪৪:৪৯
আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মতলব উত্তরে গাছ কাটার অভিযোগ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফলজ গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সঙ্গে একই এলাকার মুঞ্জির বেপারী, মো. জনি, অঞ্জনা বেগম, হেলেনা বেগম, শিরিনা বেগমসহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫ জনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুঞ্জির বেপারীসহ তার সহযোগীরা দা ও ছেনিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বসতবাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করে এবং বাধা দিলে হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজ ঘরে আশ্রয় নেন। এ সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে থাকা ৪৮টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ কেটে ফেলে এবং সেগুলো জোরপূর্বক নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, উক্ত সম্পত্তি নিয়ে মতলব সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-৯১০/২০২১ চলমান রয়েছে। মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আদেশ বিদ্যমান রয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ছোট চরকালিয়া মৌজার সি.এস., আর.এস. ও বি.এস. খতিয়ানভুক্ত একাধিক দাগে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।
দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “মুঞ্জির বেপারীসহ তাদের লোকজন এসে আমার বাড়ির সামনের ফলজ গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুঞ্জির বেপারী বলেন, “আমি চাকরির কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলাম না। প্রায় তিন মাস আগে অবসরে এসে ফিরেছি। জমিটি নিয়ে আদালতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে দেলোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজন জমিতে বালু ফেলে ভরাট করেছেন। আমি শুধু বাড়ির সামনের আগাছা পরিষ্কার করেছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।”
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।